১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মাইলষ্টোনে বিমান দুর্ঘটনাঃ ভিন্নভাবে দেখা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • 186

সৈয়দ সাফিউল হাসান চিশতি

গেল সোমবার বাংলাদেশের বিমান দূর্ঘটনার ইতিহাসে ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনাটি ঘটে গেল। ঢাকার উত্তরায় দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলষ্টোন স্কুলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষনকালীন সময়ে বিধ্বস্ত হয় ।

স্কুল কম্পাউন্ডে বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানটির দূর্ঘটনায় সরকারী হিসাব মতে মৃত্যু ৩১, আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৩৪ আহত সংখ্যা ১৬৫। এ দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি আর যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করছি।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ অন্যান্য মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দেখা গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে তারা জানাচ্ছে।

নিহতের সংখ্যা কমবেশি যাই হোক জীবনের মূল্য কিন্তু অনেক বেশি। তা নিয়ে কোন মিডিয়ায় বেশি দেখানো, কোন মিডিয়ায় কম দেখানো এসব নিয়ে রাজনীতি, অগ্নিদগ্ধদের দেখতে গিয়ে হাসপাতালে ভিড় করা এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব চর্চা হয়েছে।

আমাদের একটি সন্তানের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। সরকারি সংস্থা, সরকার অথবা বেসরকারি সংস্থা সবাইকেই জবাবদিহিতার জায়গায় স্বচ্ছ হতে হবে ।

সাধারণ জনগনের অনেকের কাছে এটি শুধু একটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। কারো কাছে এটি ছিল ফিটনেস বিহীন গাড়ির মত। উড্ডয়নের স্থান হতে ১.৬ নটিকেল মাইলের মধ্যে স্কুলটি অবস্থিত। যে ক্লোজ রুটে বিমান চলাচল করে সেখানে স্কুল তৈরি করার অনুমোদন কে দিয়েছে, এ বিষয়টি ঘুরেফিরে আসছে কিন্তু।

কেউ বলছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিতে অনিহা প্রবেশ করেছিলেন। তাহলে কাদের প্ররোচনায় স্কুলটির অনুমোদন দেয়া হলো।

এখনো ব্ল্যাক বক্স না পাওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের কথার বিস্তার ঘটছে। ব্ল্যাক বক্স প্রতিটি বিমানে সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে। ব্ল্যাক বক্স থেকে পাইলট এর কন্ঠ নির্দেশনা, রেডিও ট্রান্সক্রিপ্ট, ফ্লাইটের গতি, উচ্চতা, অবস্থান এসব জানা যায়। বিষয়টি দুর্ঘটনা কিনা এ বিষয়ে সুস্পষ্টতা এখনো আসেনি। আন্তর্জাতিক তদন্তের কথাও বলছেন কেউ কেউ।।

দুপুর একটা ছয় মিনিটে উড্ডয়ন করা আর ১২ মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত অর্থাৎ একটা আঠারোতে বিধ্বস্ত হওয়া এফ ৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি চীন থেকে কেনা। যদিও ২০২৩ সালে চীন এই মডেলের বিমানের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছে, এমনকি বিক্রিও। পাকিস্তান ও তা নিষিদ্ধ করেছে।

আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে বাংলাদেশের এ পর্যন্ত যে কয়েকটি বিমান ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে ঘটেছে তার মধ্যে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ছাড়া বাকি সবগুলো ঘটনাই প্রশিক্ষণকালীন সময়ের। এখন দেখা যায় বিমান দুর্ঘটনা ঘটে কি কারনে।

মূলত: পাইলটের ভুল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ভুল, মানবিক ভুল, মেকানিক্যাল ভুল, পাখির আঘাত, খারাপ আবহাওয়ায় বিমান উড্ডয়ন, বিমানের ইঞ্জিন, হাইড্রোলিক সিস্টেম, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি ত্রুটি, বিমানের ডিজাইন, নির্মাণের ত্রুটি, বোমা হামলা এসব কারণে বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অর্থাৎ কারণ যাই হোক না কেন তা এর মধ্যেই আছে। একজন পাইলটই দেখলাম একে ষড়যন্ত্র বলছেন। তার যুক্তি পাইলট Low Attitude Training Circuit এ ছিলেন – সেখানে ইজেকশন সিস্টেম ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু অস্বাভাবিক দ্রুততায় পাইলট ইজেক্ট করেছেন। যেখানে ক্লাস চলছিল এমন একটি ভবনে বিমান ভেঙ্গে পড়বে এটাও অনেকের শুধু দুর্ঘটনা বলতেই নারাজ।

কিন্তু সঠিকভাবে চেক করে ওঠার পর লুকনো ত্রুটি ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো অসম্ভবকর হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। তবে সাধারন্যে প্রচলিত হয়েছে যে বোতাম টিপলেই প্যারাসুট দিয়ে তৌকির নেমে যেতে পারতেন। দুর্ঘটনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি নিশ্চয়ই এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের ইনার অ্যাপরোচ এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রাজউক এবং সিভিল এভিয়েশন এর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সঠিকভাবে অনুমতি নিয়েছে কিনা, তা দেখাও জরুরি।

ডিটেইল্ড এরিয়া প্লানে স্কুলের অংশটি জলাধারের মধ্যে ছিল এবং তা সেভাবেই রাখার নির্দেশ ছিল। ফ্লাইং এর উঠানামার প্রয়োজনে ৫ নটিকেল মাইল পর্যন্ত নগর উন্নয়ন সীমিত রাখা জরুরী।

তেজগাও বিমান ঘাঁটি ছাড়াও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে যশোর বিমান ঘাঁটি, চট্টগ্রামের কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি, সিলেট ও পটুয়াখালীর সামরিক ঘাঁটি। তবে যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে লালমনিরহাট এবং কুমিল্লার বিমান বন্দরটিও চালু করা যায়।

কিন্তু যেখানেই যাবেন মানুষের বসবাসের জায়গা এড়ানো মত সম্ভব নয়। তবে রানওয়েতে উঠানামার সময়ের রুটটি অনেক গুরূত্বপূর্ণ।

রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে কিছু। তাৎক্ষণিকভাবে যে পর্যায়েরই আহত হোক না কেন আশেপাশের হাসপাতালে না নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে যদি স্থানান্তর করা যেত প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেই তবে পরিস্থিতির ভিন্নতরও হতে পারতো।

আহত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা কিভাবে নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে বেশি।। এ ধরনের রোগীদের শরীরের তরল ভারসাম্য, ইনফেকশন প্রতিরোধ, পুষ্টি এবং মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসা দেয়া হয়।

পোঁড়া রোগীদের ক্ষেত্রে ত্বকের উপর ফোসকা পড়ে, ফুসকা ফেটে পানি বের হয়, চামড়ার স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার কারণে এ সময় গ্রাফটিং এর প্রয়োজন হতে পারে। চরম পর্যায়ে যারা পুঁড়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে ক্ষত ত্বকের সব স্তরে পৌঁছায় যা স্নায়ু বা নার্ভের ক্ষতি হয়। তখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা এবং পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচার সবচেয়ে জরুরী।

লেখক: সৈয়দ সাফিউল হাসান চিশতি। আহ্বায়ক, চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মাইলষ্টোনে বিমান দুর্ঘটনাঃ ভিন্নভাবে দেখা

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

গেল সোমবার বাংলাদেশের বিমান দূর্ঘটনার ইতিহাসে ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনাটি ঘটে গেল। ঢাকার উত্তরায় দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলষ্টোন স্কুলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষনকালীন সময়ে বিধ্বস্ত হয় ।

স্কুল কম্পাউন্ডে বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানটির দূর্ঘটনায় সরকারী হিসাব মতে মৃত্যু ৩১, আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৩৪ আহত সংখ্যা ১৬৫। এ দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি আর যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করছি।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ অন্যান্য মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দেখা গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে তারা জানাচ্ছে।

নিহতের সংখ্যা কমবেশি যাই হোক জীবনের মূল্য কিন্তু অনেক বেশি। তা নিয়ে কোন মিডিয়ায় বেশি দেখানো, কোন মিডিয়ায় কম দেখানো এসব নিয়ে রাজনীতি, অগ্নিদগ্ধদের দেখতে গিয়ে হাসপাতালে ভিড় করা এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব চর্চা হয়েছে।

আমাদের একটি সন্তানের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। সরকারি সংস্থা, সরকার অথবা বেসরকারি সংস্থা সবাইকেই জবাবদিহিতার জায়গায় স্বচ্ছ হতে হবে ।

সাধারণ জনগনের অনেকের কাছে এটি শুধু একটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। কারো কাছে এটি ছিল ফিটনেস বিহীন গাড়ির মত। উড্ডয়নের স্থান হতে ১.৬ নটিকেল মাইলের মধ্যে স্কুলটি অবস্থিত। যে ক্লোজ রুটে বিমান চলাচল করে সেখানে স্কুল তৈরি করার অনুমোদন কে দিয়েছে, এ বিষয়টি ঘুরেফিরে আসছে কিন্তু।

কেউ বলছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিতে অনিহা প্রবেশ করেছিলেন। তাহলে কাদের প্ররোচনায় স্কুলটির অনুমোদন দেয়া হলো।

এখনো ব্ল্যাক বক্স না পাওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের কথার বিস্তার ঘটছে। ব্ল্যাক বক্স প্রতিটি বিমানে সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে। ব্ল্যাক বক্স থেকে পাইলট এর কন্ঠ নির্দেশনা, রেডিও ট্রান্সক্রিপ্ট, ফ্লাইটের গতি, উচ্চতা, অবস্থান এসব জানা যায়। বিষয়টি দুর্ঘটনা কিনা এ বিষয়ে সুস্পষ্টতা এখনো আসেনি। আন্তর্জাতিক তদন্তের কথাও বলছেন কেউ কেউ।।

দুপুর একটা ছয় মিনিটে উড্ডয়ন করা আর ১২ মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত অর্থাৎ একটা আঠারোতে বিধ্বস্ত হওয়া এফ ৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি চীন থেকে কেনা। যদিও ২০২৩ সালে চীন এই মডেলের বিমানের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছে, এমনকি বিক্রিও। পাকিস্তান ও তা নিষিদ্ধ করেছে।

আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে বাংলাদেশের এ পর্যন্ত যে কয়েকটি বিমান ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে ঘটেছে তার মধ্যে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ছাড়া বাকি সবগুলো ঘটনাই প্রশিক্ষণকালীন সময়ের। এখন দেখা যায় বিমান দুর্ঘটনা ঘটে কি কারনে।

মূলত: পাইলটের ভুল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ভুল, মানবিক ভুল, মেকানিক্যাল ভুল, পাখির আঘাত, খারাপ আবহাওয়ায় বিমান উড্ডয়ন, বিমানের ইঞ্জিন, হাইড্রোলিক সিস্টেম, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি ত্রুটি, বিমানের ডিজাইন, নির্মাণের ত্রুটি, বোমা হামলা এসব কারণে বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অর্থাৎ কারণ যাই হোক না কেন তা এর মধ্যেই আছে। একজন পাইলটই দেখলাম একে ষড়যন্ত্র বলছেন। তার যুক্তি পাইলট Low Attitude Training Circuit এ ছিলেন – সেখানে ইজেকশন সিস্টেম ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু অস্বাভাবিক দ্রুততায় পাইলট ইজেক্ট করেছেন। যেখানে ক্লাস চলছিল এমন একটি ভবনে বিমান ভেঙ্গে পড়বে এটাও অনেকের শুধু দুর্ঘটনা বলতেই নারাজ।

কিন্তু সঠিকভাবে চেক করে ওঠার পর লুকনো ত্রুটি ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো অসম্ভবকর হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। তবে সাধারন্যে প্রচলিত হয়েছে যে বোতাম টিপলেই প্যারাসুট দিয়ে তৌকির নেমে যেতে পারতেন। দুর্ঘটনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি নিশ্চয়ই এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের ইনার অ্যাপরোচ এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রাজউক এবং সিভিল এভিয়েশন এর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সঠিকভাবে অনুমতি নিয়েছে কিনা, তা দেখাও জরুরি।

ডিটেইল্ড এরিয়া প্লানে স্কুলের অংশটি জলাধারের মধ্যে ছিল এবং তা সেভাবেই রাখার নির্দেশ ছিল। ফ্লাইং এর উঠানামার প্রয়োজনে ৫ নটিকেল মাইল পর্যন্ত নগর উন্নয়ন সীমিত রাখা জরুরী।

তেজগাও বিমান ঘাঁটি ছাড়াও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে যশোর বিমান ঘাঁটি, চট্টগ্রামের কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি, সিলেট ও পটুয়াখালীর সামরিক ঘাঁটি। তবে যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে লালমনিরহাট এবং কুমিল্লার বিমান বন্দরটিও চালু করা যায়।

কিন্তু যেখানেই যাবেন মানুষের বসবাসের জায়গা এড়ানো মত সম্ভব নয়। তবে রানওয়েতে উঠানামার সময়ের রুটটি অনেক গুরূত্বপূর্ণ।

রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে কিছু। তাৎক্ষণিকভাবে যে পর্যায়েরই আহত হোক না কেন আশেপাশের হাসপাতালে না নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে যদি স্থানান্তর করা যেত প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেই তবে পরিস্থিতির ভিন্নতরও হতে পারতো।

আহত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা কিভাবে নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে বেশি।। এ ধরনের রোগীদের শরীরের তরল ভারসাম্য, ইনফেকশন প্রতিরোধ, পুষ্টি এবং মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসা দেয়া হয়।

পোঁড়া রোগীদের ক্ষেত্রে ত্বকের উপর ফোসকা পড়ে, ফুসকা ফেটে পানি বের হয়, চামড়ার স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার কারণে এ সময় গ্রাফটিং এর প্রয়োজন হতে পারে। চরম পর্যায়ে যারা পুঁড়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে ক্ষত ত্বকের সব স্তরে পৌঁছায় যা স্নায়ু বা নার্ভের ক্ষতি হয়। তখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা এবং পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচার সবচেয়ে জরুরী।

লেখক: সৈয়দ সাফিউল হাসান চিশতি। আহ্বায়ক, চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ