০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে প্রধান উপদেষ্টা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • 85

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৬ জুলাই) রাত ৯টা ১০ মিনিটে তিনি ইনস্টিটিউটে পৌঁছান এবং প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি দগ্ধ রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সেবার মান, সরঞ্জামের প্রাপ্যতা ও সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি না রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের কাছ থেকে তিনি দুর্ঘটনার বিস্তারিত এবং দগ্ধদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। অধ্যাপক নাসির জানান, রোগীদের মাল্টিডিসিপ্লিনারি কনসালটেশন বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসময় তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৪ জন রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায়, ৯ জন সিভিয়ার এবং ২৩ জন ইন্টারমিডিয়েট অবস্থায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন : নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা রুখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও ওষুধের চাহিদা জানতে চাইলে পরিচালক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করা হচ্ছে এবং বিদেশি চিকিৎসক দল কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে করে এনেছেন।

বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দগ্ধদের আশপাশের ১০টি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের দ্রুত স্থানান্তর করা হয় বার্ন ইনস্টিটিউট ও সিএমএইচে। তিনি বলেন, “এই ত্বরিত ব্যবস্থাপনার জন্য শুরুতে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু মৃতদেহ শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।”

তবে রোগী স্থানান্তরের সময় অ্যাম্বুলেন্সের সংকট প্রকটভাবে ধরা পড়ে—এই প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিতে নির্দেশ দেন এবং জরুরি সেবার কাঠামো উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের মানসিক পুনর্বাসনে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাউন্সেলিং কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। এ কার্যক্রমে মাইলস্টোন স্কুলের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আহত ও নিহতদের পরিবার সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন।

হাসপাতালে রোগীদের স্বজনদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ বজায় রাখার বিষয়েও বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিক এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেশের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অসাধারণ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।”

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে প্রধান উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৬ জুলাই) রাত ৯টা ১০ মিনিটে তিনি ইনস্টিটিউটে পৌঁছান এবং প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি দগ্ধ রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সেবার মান, সরঞ্জামের প্রাপ্যতা ও সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি না রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের কাছ থেকে তিনি দুর্ঘটনার বিস্তারিত এবং দগ্ধদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। অধ্যাপক নাসির জানান, রোগীদের মাল্টিডিসিপ্লিনারি কনসালটেশন বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসময় তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৪ জন রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায়, ৯ জন সিভিয়ার এবং ২৩ জন ইন্টারমিডিয়েট অবস্থায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন : নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা রুখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও ওষুধের চাহিদা জানতে চাইলে পরিচালক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করা হচ্ছে এবং বিদেশি চিকিৎসক দল কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে করে এনেছেন।

বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দগ্ধদের আশপাশের ১০টি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের দ্রুত স্থানান্তর করা হয় বার্ন ইনস্টিটিউট ও সিএমএইচে। তিনি বলেন, “এই ত্বরিত ব্যবস্থাপনার জন্য শুরুতে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু মৃতদেহ শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।”

তবে রোগী স্থানান্তরের সময় অ্যাম্বুলেন্সের সংকট প্রকটভাবে ধরা পড়ে—এই প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিতে নির্দেশ দেন এবং জরুরি সেবার কাঠামো উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের মানসিক পুনর্বাসনে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাউন্সেলিং কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। এ কার্যক্রমে মাইলস্টোন স্কুলের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আহত ও নিহতদের পরিবার সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন।

হাসপাতালে রোগীদের স্বজনদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ বজায় রাখার বিষয়েও বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিক এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেশের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অসাধারণ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।”