০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘাতে হস্তক্ষেপ চান ট্রাম্প, যুদ্ধবিরতির আহ্বান

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • 96

সীমান্ত সংঘাতে উত্তপ্ত থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, উভয় দেশের নেতৃত্ব তার সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছেন।

শনিবার স্কটল্যান্ড সফরে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘উভয় নেতার সঙ্গে কথা বলার পর মনে হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি এখন খুবই স্বাভাবিক লক্ষ্য। খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখতে পাব।’

আরও পড়ুন : থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ফের সংঘর্ষ: নিহত ২

তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ কোনো বাণিজ্য চুক্তি এগোবে না। কিন্তু শান্তি এলে, আমি উভয় দেশের সঙ্গেই বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করতে আগ্রহী।’

গত তিন দিনে থাই-কাম্বোডিয়া সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। থাইল্যান্ডের সুরিন অঞ্চলের রাজাবহাট বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে সাময়িক আশ্রয় নেওয়া বহু মানুষ এখনও মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়।

যদিও ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ড বা কাম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে শনিবার ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস সাংগিয়ামপংসা জানিয়েছেন, তার দেশ আসিয়ান-এর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘নীতিগতভাবে’ সম্মত হয়েছে। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, “প্রথমে কাম্বোডিয়াকে শত্রুতা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তরিকতা দেখাতে হবে।”

সংঘর্ষের মূল কারণ: প্রাচীন মন্দির নিয়ে দ্বন্দ্ব

দুই দেশের মধ্যে ৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্তজুড়ে বহু অনির্ধারিত এলাকা রয়েছে, যার মধ্যে ১১শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ‘প্রেহা ভিহেয়ার’ মন্দির নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিরোধ।

১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মন্দিরটি কাম্বোডিয়ার বলে রায় দিলেও থাইল্যান্ড তা স্বীকার করেনি। ২০০৮ সালে মন্দিরটিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা বাড়ে। পরে ২০১১ ও ২০১৩ সালে আদালত আবারো কাম্বোডিয়ার পক্ষেই রায় দেয়।

২০২৫ সালের মে মাসে সীমান্তে থাই ও কাম্বোডিয়ান সেনাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষে এক কাম্বোডিয়ান সেনা নিহত হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং জুলাইয়ে শুরু হয় তিন দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘাতে হস্তক্ষেপ চান ট্রাম্প, যুদ্ধবিরতির আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

সীমান্ত সংঘাতে উত্তপ্ত থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, উভয় দেশের নেতৃত্ব তার সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছেন।

শনিবার স্কটল্যান্ড সফরে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘উভয় নেতার সঙ্গে কথা বলার পর মনে হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি এখন খুবই স্বাভাবিক লক্ষ্য। খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখতে পাব।’

আরও পড়ুন : থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ফের সংঘর্ষ: নিহত ২

তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ কোনো বাণিজ্য চুক্তি এগোবে না। কিন্তু শান্তি এলে, আমি উভয় দেশের সঙ্গেই বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করতে আগ্রহী।’

গত তিন দিনে থাই-কাম্বোডিয়া সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। থাইল্যান্ডের সুরিন অঞ্চলের রাজাবহাট বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে সাময়িক আশ্রয় নেওয়া বহু মানুষ এখনও মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়।

যদিও ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ড বা কাম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে শনিবার ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস সাংগিয়ামপংসা জানিয়েছেন, তার দেশ আসিয়ান-এর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘নীতিগতভাবে’ সম্মত হয়েছে। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, “প্রথমে কাম্বোডিয়াকে শত্রুতা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তরিকতা দেখাতে হবে।”

সংঘর্ষের মূল কারণ: প্রাচীন মন্দির নিয়ে দ্বন্দ্ব

দুই দেশের মধ্যে ৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্তজুড়ে বহু অনির্ধারিত এলাকা রয়েছে, যার মধ্যে ১১শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ‘প্রেহা ভিহেয়ার’ মন্দির নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিরোধ।

১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মন্দিরটি কাম্বোডিয়ার বলে রায় দিলেও থাইল্যান্ড তা স্বীকার করেনি। ২০০৮ সালে মন্দিরটিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা বাড়ে। পরে ২০১১ ও ২০১৩ সালে আদালত আবারো কাম্বোডিয়ার পক্ষেই রায় দেয়।

২০২৫ সালের মে মাসে সীমান্তে থাই ও কাম্বোডিয়ান সেনাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষে এক কাম্বোডিয়ান সেনা নিহত হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং জুলাইয়ে শুরু হয় তিন দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।