০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

তিনদিন ধরে না খেয়ে গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • 68

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার সংকটে পুরো অঞ্চল জর্জরিত। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজার প্রতি তিনজনের একজন মানুষ টানা তিনদিন ধরে কোনো খাবার পাচ্ছেন না। আর এই অবস্থায় মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার শিশু।

শনিবার গাজার খান ইউনিসে অপুষ্টিতে মারা গেছে একরত্তি শিশু জয়নাব আহমেদ আবু হালিব। তাকে বুকে জড়িয়ে রেখে কাঁদছিলেন বাবা আহমেদ ও মা ইসরা। একই দিনে অপুষ্টিতে মারা গেছে আরও দুই শিশু, মোট মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। গাজা শহরের হুদ আরাফাতের সদ্যোজাত সন্তান মারা গেছে শুধুমাত্র দুধের অভাবে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, গাজায় এখন অন্তত ৯০ হাজার নারী ও শিশু চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ হাজার শিশুর অচিরেই মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। মে মাসের পর থেকে অপুষ্টির হার চার গুণ বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৫ শতাংশ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে।

আরও পড়ুন : ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ৮৯

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর দাবি, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে গাজার ওপর খাদ্য অবরোধ চাপিয়ে দিয়ে ক্ষুধাকে একটি যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। গাজায় নিযুক্ত বিভিন্ন ত্রাণকর্মী জানান, তারা নিজেরাও না খেয়েই মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বলছেন, দুর্ভিক্ষে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাদের জীবন বাঁচানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, দুই বছর বয়সী বা তার কম বয়সী এক লাখ শিশুর মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। মায়েদের দুধ নেই, বাজারে নেই শিশুখাদ্য। ফলে পানি খাইয়েই সন্তানের ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করছেন অসহায় পরিবারগুলো।

গাজায় বিতর্কিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ শুরু করলেও তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই ফাউন্ডেশন চালুর পর থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে ১,০৫৪ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। অনেকেই বলছেন, এটি একটি ‘মৃত্যুফাঁদ’।

বিধ্বস্ত গাজায় যুক্তরাজ্য বিমান থেকে খাবার ফেলার কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু জাতিসংঘ এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, এভাবে ত্রাণ ফেললে তা নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতির জন্ম দেয়। অতীতে অনেক মানুষ খাবারের বস্তার নিচে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা যুদ্ধ বন্ধেরও জোর দাবি জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

তিনদিন ধরে না খেয়ে গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার সংকটে পুরো অঞ্চল জর্জরিত। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজার প্রতি তিনজনের একজন মানুষ টানা তিনদিন ধরে কোনো খাবার পাচ্ছেন না। আর এই অবস্থায় মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার শিশু।

শনিবার গাজার খান ইউনিসে অপুষ্টিতে মারা গেছে একরত্তি শিশু জয়নাব আহমেদ আবু হালিব। তাকে বুকে জড়িয়ে রেখে কাঁদছিলেন বাবা আহমেদ ও মা ইসরা। একই দিনে অপুষ্টিতে মারা গেছে আরও দুই শিশু, মোট মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। গাজা শহরের হুদ আরাফাতের সদ্যোজাত সন্তান মারা গেছে শুধুমাত্র দুধের অভাবে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, গাজায় এখন অন্তত ৯০ হাজার নারী ও শিশু চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ হাজার শিশুর অচিরেই মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। মে মাসের পর থেকে অপুষ্টির হার চার গুণ বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৫ শতাংশ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে।

আরও পড়ুন : ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ৮৯

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর দাবি, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে গাজার ওপর খাদ্য অবরোধ চাপিয়ে দিয়ে ক্ষুধাকে একটি যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। গাজায় নিযুক্ত বিভিন্ন ত্রাণকর্মী জানান, তারা নিজেরাও না খেয়েই মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বলছেন, দুর্ভিক্ষে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাদের জীবন বাঁচানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, দুই বছর বয়সী বা তার কম বয়সী এক লাখ শিশুর মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। মায়েদের দুধ নেই, বাজারে নেই শিশুখাদ্য। ফলে পানি খাইয়েই সন্তানের ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করছেন অসহায় পরিবারগুলো।

গাজায় বিতর্কিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ শুরু করলেও তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই ফাউন্ডেশন চালুর পর থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে ১,০৫৪ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। অনেকেই বলছেন, এটি একটি ‘মৃত্যুফাঁদ’।

বিধ্বস্ত গাজায় যুক্তরাজ্য বিমান থেকে খাবার ফেলার কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু জাতিসংঘ এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, এভাবে ত্রাণ ফেললে তা নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতির জন্ম দেয়। অতীতে অনেক মানুষ খাবারের বস্তার নিচে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা যুদ্ধ বন্ধেরও জোর দাবি জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।