১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নে পে কমিশন গঠন

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • 83

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে সরকার পে কমিশন গঠন করেছে। নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে কমিশনকে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। তবে গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের বাস্তব আয় কমিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের জীবনযাত্রার মান রক্ষায় নতুন বেতন কাঠামো সময়ের দাবি হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন : দলীয় প্রতীক থাকছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচনে

২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ শুরু করলেও সমালোচনার মুখে সরকার পরে পেছনের কক্ষপথে ফিরে যায়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বেশি।

  • কর্মকর্তা বেতন: ১৩,৪৮৩ কোটি টাকা
  • কর্মচারী বেতন: ৩০,০৪৮ কোটি টাকা
  • ভাতা: ৪১,১৫৩ কোটি টাকা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট বক্তৃতায় সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যারই ধারাবাহিকতায় এ পে কমিশন গঠনের উদ্যোগ।

নতুন পে কমিশন গঠনের খবরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই উদ্যোগ সরকারি সেবার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নে পে কমিশন গঠন

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে সরকার পে কমিশন গঠন করেছে। নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে কমিশনকে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। তবে গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের বাস্তব আয় কমিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের জীবনযাত্রার মান রক্ষায় নতুন বেতন কাঠামো সময়ের দাবি হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন : দলীয় প্রতীক থাকছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচনে

২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ শুরু করলেও সমালোচনার মুখে সরকার পরে পেছনের কক্ষপথে ফিরে যায়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বেশি।

  • কর্মকর্তা বেতন: ১৩,৪৮৩ কোটি টাকা
  • কর্মচারী বেতন: ৩০,০৪৮ কোটি টাকা
  • ভাতা: ৪১,১৫৩ কোটি টাকা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট বক্তৃতায় সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যারই ধারাবাহিকতায় এ পে কমিশন গঠনের উদ্যোগ।

নতুন পে কমিশন গঠনের খবরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই উদ্যোগ সরকারি সেবার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন।