থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত নিয়ে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছে।
এর মধ্যে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে থাইল্যান্ড।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ভোরে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এতে থাইল্যান্ডের অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং দুই থাই সেনা আহত হন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সীমান্তবর্তী ৮৬টি সীমান্তবর্তী গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।
সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বুধবার (২৩ জুলাই) এক থাই সেনা তার পা হারানোর কয়েক ঘণ্টা পর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলো।
থাই সেনাবাহিনী বলছে, কম্বোডিয়ার সেনারা আগে উত্তর-পশ্চিম কম্বোডিয়ার ওদ্দার মিনচেই প্রদেশে অবস্থিত বিরোধপূর্ণ ‘তা মোয়ান থম মন্দিরে’র কাছে একটি এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এরপর তীব্র লড়াই শুরু হয়, যা এখনও চলছে।
থাই সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, সেনা পাঠানোর আগে কম্বোডিয়া ওই এলাকায় একটি নজরদারি ড্রোন পাঠায়, এরপর আর্টিলারি ও দীর্ঘপাল্লার বিএম২১ রকেটের মতো ভারি অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গোলা ছোড়ে।
এদিকে, কম্বোডীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রথমে গুলি চালিয়েছে থাই সেনারাই। পরে, আত্মরক্ষার জন্য জবাব দিয়েছে কম্বোডিয়া।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় আঞ্চলিক সামরিক কমান্ড ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর একাধিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : ‘সাইবার তেলাপোকা’ আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর যুদ্ধের নতুন হাতিয়ার
যুদ্ধবিমানগুলো এরই মধ্যে বোমা হামলা চালিয়ে দুটি কম্বোডিয়ান আঞ্চলিক সামরিক সহায়তা ইউনিট ধ্বংস করার দাবিও করেছে।
থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রিচা সুকসুওয়ানন্ট বলেছেন, কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলাগুলো চালানো হয়েছে। যদিও কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে থাই বিমান হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ বহুদিন ধরেই চলে আসছে। গত মে মাসেও একবার সংঘাতে জড়ায় দুই দেশের সেনারা। ওই লড়াইয়ে এক কম্বোডীয় সেনা নিহত হন।
ঢাকা ডেস্ক 









