ইরান ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ তাপদাহের মুখোমুখি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে দেখা দিয়েছে চরম পানি সংকট, রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নেওয়া হয়েছে জরুরি পদক্ষেপ।
ইরানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এটি চলতি বছরের সবচেয়ে উত্তপ্ত সপ্তাহ। রবিবার তেহরানে তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সোমবার তা বেড়ে ৪১ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তেহরানকে পানি সরবরাহকারী বাঁধগুলোর জলাধার বর্তমানে গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচু স্তরে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থা। কয়েক বছরের বৃষ্টিপাত হ্রাস, অপরিকল্পিত পানি ব্যবহার এবং ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে এই সংকট চরমে উঠেছে।
পানি সংরক্ষণে জনগণকে কমপক্ষে ২০ শতাংশ পানি ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
তেহরান সিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেহদি চামরান বলেন, ‘পানি সরবরাহ ঠিক রাখতে সবাইকে সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
আরও পড়ুন : জোড়পূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের শিকার ভারতীয় দম্পতি
চরম তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ-পানি সংরক্ষণের জন্য বুধবার (২৩ জুলাই) তেহরান প্রদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘চলমান চরম তাপ ও পানি-বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বুধবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।’
সরকারঘনিষ্ঠ দৈনিক জাভান জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সংকট মোকাবিলায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আক্রান্ত। তবে এই সংকট শুধু আবহাওয়ার নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও অবহেলার ফলও বটে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলাই বর্তমানে ভয়াবহ পানি সংকটে রয়েছে।
চলমান তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে যতটা সম্ভব ঘরে থাকার, পর্যাপ্ত পানি পানের এবং দিনের উত্তপ্ত সময় বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









