বিগত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আলোচিত ও বিতর্কিত এই তিন নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের নাম, ঠিকানা, পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়ে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসির উপসচিব মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (পিবিআই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এই তথ্য চেয়েছে। মামলাটি ২০২৫ সালের ২২ জুন বিএনপির পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে— ইসি সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষা না করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করেছে।
আরও পড়ুন : বিনা ভোটে আর এমপি নয়
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানার মামলা নম্বর-১১, জিআর নম্বর-১৫৬/২০২৫ অনুযায়ী পেনাল কোডের একাধিক ধারায় দায়ের হয়েছে। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্রভিত্তিক তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।
পিবিআইয়ের চাহিদার ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। এতে বলা হয়, রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্ব পালন করেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউএনওরা, আর মাঠপর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন প্রায় ২ লাখ প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার।
এদিকে, মামলার তালিকায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং তৎকালীন কমিশনারগণ। মামলার পরপরই নূরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা ডেস্ক 









