বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ঘুষ গ্রহণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক জরিপে। বিবিএস পরিচালিত ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে’ অনুযায়ী, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের বড় একটি অংশ ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জরিপে দেখা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের ৩৩ শতাংশ সরাসরি, ৩২ দশমিক ৬৪ শতাংশ তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে এবং ২১ শতাংশ ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে ঘুষ আদায় করেন।
বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ লেনদেনের হার সবচেয়ে বেশি। বিআরটিএতে ৬৩ শতাংশ নাগরিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এমনকি ঘুষখোররা নগদ অর্থ ছাড়াও ভ্রমণের টিকিট, উপহার, খাবার-পানীয় কিংবা জমি বা ফ্ল্যাটও ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করছেন। শহরের তুলনায় গ্রামে সরাসরি ঘুষ চাওয়ার প্রবণতা বেশি হলেও, শহরে পরোক্ষ বা তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
আরও পড়ুন : মোবাইলে গেম খেলা ৪ শিক্ষার্থীকে ডেকে পড়াতে বসালেন ইউএনও
এদিকে, দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে তাদের করা ৩৯৯টি মামলার মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ আসামি সরকারি কর্মকর্তা। এসব মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ২০০৯-২০২৪ পর্যন্ত ঘুষ দিয়ে নাগরিকদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.৪৬ লাখ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘুষ সংস্কৃতি শুধু নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা নয়, রাষ্ট্রীয় দুর্বল শাসন ব্যবস্থারও প্রতিফলন। বাস্তবসম্মত ও কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
তথ্যসূত্র: কালবেলা, বিবিএস, দুদক প্রতিবেদন।
ঢাকা ডেস্ক 









