১২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

অভাব-অনটন দূর করতে যেসব দোয়া ও আমল করবেন

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • 156

মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্য ও অনটনও আসতে পারে। এসব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করাই একজন মুমিনের পরিচয়। অভাব-অনটন দূর করার জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের কিছু দোয়া ও আমল শিখিয়ে গেছেন, যেগুলো পাঠ ও পালন করলে আল্লাহতায়ালা বান্দার ওপর দয়া করেন এবং রিজিকে বরকত দেন।

দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে প্রিয়নবীর শেখানো দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে এমন একটি দোয়া পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যা অভাব-অনটন থেকে মুক্তি পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

আরবি দোয়া:

اللّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ، وَالْقِلَّةِ، وَالذِّلَّةِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أو أُظْلَمَ

উচ্চারণ:

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফাকরি, ওয়াল কিল্লাতি, ওয়াজজিল্লাতি, ওয়া আউজুবিকা মিন আন আজলিমা আও উজলিমা।”

বাংলা অর্থ:

“হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই দারিদ্র্য, স্বল্পতা ও অপমান থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কাউকে জুলুম করা এবং কারও দ্বারা জুলুমিত হওয়ার অবস্থা থেকে।”

(সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস – ১৫৪৪)

আরও পড়ুন : জুলুমের পরিণতি নিয়ে যা বললেন আজহারী

ইস্তেগফার পাঠে সংকট থেকে মুক্তি

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—“যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে প্রতিটি সংকট থেকে উদ্ধার করবেন, দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে তার জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।”

(সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস – ১৫১৮)

ইস্তেগফারের দোয়া:

أَسْتَغْفِرُ اللهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বি ওয়া আতুবু ইলাইহি

অর্থ: “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই আমার সব গোনাহের জন্য এবং তারই দিকে ফিরে যাই।”

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় রিজিক বাড়ে

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন—“যে ব্যক্তি তার রিজিক বাড়াতে এবং আয়ু দীর্ঘ করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”

(সূত্র: বুখারি, হাদিস – ৫৯৮৫)

রিজিকের মালিক কেবল আল্লাহ তাআলা। তিনি চাইলে অল্প থেকে অনেক দেন, আবার পরীক্ষা নিতে গিয়ে কাউকে সাময়িকভাবে অভাবেও ফেলেন। আমাদের দায়িত্ব হলো—ধৈর্য ধরে হালাল পথে পরিশ্রম করা, ইবাদতে মনোযোগী হওয়া এবং দোয়ার মাধ্যমে তার সাহায্য চাওয়া।

সুতরাং, দারিদ্র্য ও সংকট কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত এসব দোয়া ও আমল পালন করুন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

অভাব-অনটন দূর করতে যেসব দোয়া ও আমল করবেন

সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্য ও অনটনও আসতে পারে। এসব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করাই একজন মুমিনের পরিচয়। অভাব-অনটন দূর করার জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের কিছু দোয়া ও আমল শিখিয়ে গেছেন, যেগুলো পাঠ ও পালন করলে আল্লাহতায়ালা বান্দার ওপর দয়া করেন এবং রিজিকে বরকত দেন।

দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে প্রিয়নবীর শেখানো দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে এমন একটি দোয়া পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যা অভাব-অনটন থেকে মুক্তি পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

আরবি দোয়া:

اللّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ، وَالْقِلَّةِ، وَالذِّلَّةِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أو أُظْلَمَ

উচ্চারণ:

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফাকরি, ওয়াল কিল্লাতি, ওয়াজজিল্লাতি, ওয়া আউজুবিকা মিন আন আজলিমা আও উজলিমা।”

বাংলা অর্থ:

“হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই দারিদ্র্য, স্বল্পতা ও অপমান থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কাউকে জুলুম করা এবং কারও দ্বারা জুলুমিত হওয়ার অবস্থা থেকে।”

(সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস – ১৫৪৪)

আরও পড়ুন : জুলুমের পরিণতি নিয়ে যা বললেন আজহারী

ইস্তেগফার পাঠে সংকট থেকে মুক্তি

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—“যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে প্রতিটি সংকট থেকে উদ্ধার করবেন, দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে তার জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।”

(সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস – ১৫১৮)

ইস্তেগফারের দোয়া:

أَسْتَغْفِرُ اللهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বি ওয়া আতুবু ইলাইহি

অর্থ: “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই আমার সব গোনাহের জন্য এবং তারই দিকে ফিরে যাই।”

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় রিজিক বাড়ে

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন—“যে ব্যক্তি তার রিজিক বাড়াতে এবং আয়ু দীর্ঘ করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”

(সূত্র: বুখারি, হাদিস – ৫৯৮৫)

রিজিকের মালিক কেবল আল্লাহ তাআলা। তিনি চাইলে অল্প থেকে অনেক দেন, আবার পরীক্ষা নিতে গিয়ে কাউকে সাময়িকভাবে অভাবেও ফেলেন। আমাদের দায়িত্ব হলো—ধৈর্য ধরে হালাল পথে পরিশ্রম করা, ইবাদতে মনোযোগী হওয়া এবং দোয়ার মাধ্যমে তার সাহায্য চাওয়া।

সুতরাং, দারিদ্র্য ও সংকট কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত এসব দোয়া ও আমল পালন করুন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখুন।