০৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মিনি স্ট্রোকের এই ৫টি লক্ষণ মিস করলে হতে পারে বড় বিপদ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • 95

অনেকেই মনে করেন, ‘মিনি স্ট্রোক’ নামটি যতটা হালকা শোনায়, বিপদও বুঝি ততটাই ছোট। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন ঠিক তার উল্টোটা। মিনি স্ট্রোক বা টিআইএ মূলত মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের ক্ষণিকের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটি অবস্থা, যার উপসর্গগুলো কিছু সময় পর নিজে থেকেই চলে যেতে পারে। কিন্তু এটিই হতে পারে বড় স্ট্রোকের আগে শেষ সতর্কবার্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ মিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ রোগী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। অথচ বেশিরভাগ সময় মিনি স্ট্রোকের লক্ষণগুলো এতটাই সূক্ষ্ম ও ক্ষণস্থায়ী হয় যে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৫টি উপসর্গ একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়:

🔹 হঠাৎ মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো

হঠাৎ অসহ্য মাথা ঘোরা বা দাঁড়িয়ে থাকতে না পারা টিআইএর সূচনা হতে পারে। যদি আপনি বা কেউ হঠাৎই দেয়াল ধরেন বা বসে পড়েন—সতর্ক হোন।

আরও পড়ুন : নিম্ন রক্তচাপ বাড়াতে যে খাবার খাবেন

🔹 এক বা দুই চোখে দৃষ্টিহানী

অকারণে এক চোখ বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা বা সাময়িক অন্ধত্ব—এটি হতে পারে চোখের রেটিনায় রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।

🔹 শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অবশ ভাব

মুখ, হাত বা পা—শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়লে বা অবশ অনুভব করলে তা স্ট্রোকের অন্যতম ক্লাসিক উপসর্গ। অনেকে বিষয়টিকে ক্লান্তি মনে করে এড়িয়ে যান।

🔹 হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা

কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়া হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে সেটিকে সাধারণ মাথাব্যথা না ভেবে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিন।

🔹 কথা বলায় সমস্যা বা বিভ্রান্তি

হঠাৎ করে কিছু বুঝতে না পারা, কথা জড়ানো বা ভুল শব্দ ব্যবহার—সবকিছুই হতে পারে সাময়িক মস্তিষ্ক বিকারের ফল।

চিকিৎসকরা বলছেন, উপসর্গগুলো কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু সময়মতো সাড়া না দিলে পরবর্তী স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে সময় ক্ষেপণ না করে ৯৯৯ এ কল করা বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া হতে পারে সবচেয়ে বড় সতর্কতা।

মিনি স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে যাদের—তাদের মধ্যে রয়েছে বয়স বেশি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, ধূমপান এবং অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন রোগীরা।

মনে রাখুন, উপসর্গ মিললে অপেক্ষা নয়, তাৎক্ষণিক চিকিৎসাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মিনি স্ট্রোকের এই ৫টি লক্ষণ মিস করলে হতে পারে বড় বিপদ

সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

অনেকেই মনে করেন, ‘মিনি স্ট্রোক’ নামটি যতটা হালকা শোনায়, বিপদও বুঝি ততটাই ছোট। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন ঠিক তার উল্টোটা। মিনি স্ট্রোক বা টিআইএ মূলত মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের ক্ষণিকের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটি অবস্থা, যার উপসর্গগুলো কিছু সময় পর নিজে থেকেই চলে যেতে পারে। কিন্তু এটিই হতে পারে বড় স্ট্রোকের আগে শেষ সতর্কবার্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ মিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ রোগী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। অথচ বেশিরভাগ সময় মিনি স্ট্রোকের লক্ষণগুলো এতটাই সূক্ষ্ম ও ক্ষণস্থায়ী হয় যে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৫টি উপসর্গ একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়:

🔹 হঠাৎ মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো

হঠাৎ অসহ্য মাথা ঘোরা বা দাঁড়িয়ে থাকতে না পারা টিআইএর সূচনা হতে পারে। যদি আপনি বা কেউ হঠাৎই দেয়াল ধরেন বা বসে পড়েন—সতর্ক হোন।

আরও পড়ুন : নিম্ন রক্তচাপ বাড়াতে যে খাবার খাবেন

🔹 এক বা দুই চোখে দৃষ্টিহানী

অকারণে এক চোখ বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা বা সাময়িক অন্ধত্ব—এটি হতে পারে চোখের রেটিনায় রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।

🔹 শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অবশ ভাব

মুখ, হাত বা পা—শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়লে বা অবশ অনুভব করলে তা স্ট্রোকের অন্যতম ক্লাসিক উপসর্গ। অনেকে বিষয়টিকে ক্লান্তি মনে করে এড়িয়ে যান।

🔹 হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা

কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়া হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে সেটিকে সাধারণ মাথাব্যথা না ভেবে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিন।

🔹 কথা বলায় সমস্যা বা বিভ্রান্তি

হঠাৎ করে কিছু বুঝতে না পারা, কথা জড়ানো বা ভুল শব্দ ব্যবহার—সবকিছুই হতে পারে সাময়িক মস্তিষ্ক বিকারের ফল।

চিকিৎসকরা বলছেন, উপসর্গগুলো কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু সময়মতো সাড়া না দিলে পরবর্তী স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে সময় ক্ষেপণ না করে ৯৯৯ এ কল করা বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া হতে পারে সবচেয়ে বড় সতর্কতা।

মিনি স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে যাদের—তাদের মধ্যে রয়েছে বয়স বেশি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, ধূমপান এবং অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন রোগীরা।

মনে রাখুন, উপসর্গ মিললে অপেক্ষা নয়, তাৎক্ষণিক চিকিৎসাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।