যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পায়ে ফোলা ভাব ও হাতে কালশিটে দাগ নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুঞ্জন ওঠে। বিষয়টি ঘিরে নানা জল্পনার মধ্যে হোয়াইট হাউস অবশেষে প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শরীরে ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ নামক একটি বয়সজনিত শিরাজনিত সমস্যা শনাক্ত হয়েছে, যা বিপজ্জনক নয় এবং চিকিৎসকদের মতে এটি সাধারণ একটি অবস্থা।
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন, যা তাকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্টে পরিণত করে।
আরও পড়ুন : মিনি স্ট্রোকের এই ৫টি লক্ষণ মিস করলে হতে পারে বড় বিপদ
ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি মূলত এমন একটি অবস্থা যেখানে পায়ের শিরাগুলো সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে পায়ের নিচের অংশে হালকা ফোলা ভাব দেখা দেয়। প্রেস সেক্রেটারি লেভিট জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রেসিডেন্ট নিজেই বিষয়টি লক্ষ করছিলেন এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আলট্রাসাউন্ডসহ বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়।
এছাড়া ট্রাম্পের ডান হাতে থাকা কালশিটে দাগ প্রসঙ্গে বলা হয়, এটি ঘন ঘন করমর্দনের কারণে টিস্যুতে চাপ এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত অ্যাসপিরিন গ্রহণের ফলে হয়েছে, যা মেকআপ দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক চিঠিতে প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক শন বারবাবেলা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো ‘চমৎকার শারীরিক অবস্থায়’ রয়েছেন এবং তাঁর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রয়েছে।
ট্রাম্প নিজেও বারবার নিজের স্বাস্থ্য ও কর্মশক্তির বিষয়টি জোর দিয়ে বলে থাকেন। এমনকি সম্প্রতি প্রশাসনের প্রকাশিত একটি ছবিতে তাকে সুপারম্যানের পোশাকে উপস্থাপন করায় তা নিয়ে মজার পাশাপাশি সমালোচনার জন্ম দেয়।
ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেন গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা ছাড়েন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৮২। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, বাইডেনের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা গোপন করা হয়েছিল। তবে এবার ট্রাম্পকেই নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে জবাব দিতে হচ্ছে।
ঢাকা ডেস্ক 









