বগুড়ায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জেরে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রেমে ব্যর্থ সৈকত হাসান নামে এক যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে একই পরিবারের দুই নারীকে গলা কেটে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর ডিবি পুলিশের অভিযানে বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) রাত সোয়া আটটার দিকে বগুড়া শহরের ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকায় ঘটে এই জোড়া খুনের ঘটনা। নিহতরা হলেন—স্থানীয় মৃত আব্দুল কুদ্দুস বুলুর স্ত্রী লাইলী বেওয়া (৮৩) এবং পারভেজ ইসলামের স্ত্রী হাবিবা ইয়াসমিন (২১)। এছাড়া ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন নবম শ্রেণিপড়ুয়া বন্যা আক্তার।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৪টায় শহরের খান্দার এলাকার পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে সৈকত হাসানকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
আরও পড়ুন : ১৭ বছরের কিশোরকে নিয়ে পালালেন ৪০ বছরের গৃহবধূ, এলাকাজুড়ে তোলপাড়
ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, ‘গ্রেফতারের পর সৈকত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে একাই এই নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে।’
পুলিশ জানায়, আজ দুপুর ১২টার পর সৈকতকে নিয়ে হরিগাড়ী ইসলামপুর এলাকার একটি জলাশয়ে অভিযান চালানো হবে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি এসএসসি পাস করা বন্যা আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করছিলেন সৈকত। বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তার পরিবার স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানায়। একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।
বন্যার ফুপাতো ভাই মো. খোকন বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। সেই সুযোগে সৈকত ৭-৮ জন সহযোগীসহ ঘরে ঢুকে পড়ে। বন্যার ভাবী হাবিবা প্রতিবাদ করলে প্রথমেই তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর বাড়ির প্রবীণ সদস্য লাইলী বেওয়াকে একই কায়দায় হত্যা করে। বন্যা এসে বাধা দিলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা।’
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, ‘ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের শনাক্ত ও ধরতে অভিযান চলছে। কেন এমন বর্বর ঘটনা ঘটলো, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।’
ঢাকা ডেস্ক 









