১২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ব্যবসায়ি সোহাগ হত্যার কারণ নিয়ে যা জানালেন ডিএমপি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • 82

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী । ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসায়ি সোহাগ হত্যার কারণ জানালেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি জানায়, রাজনীতি নয়, বরং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সোহাগ আগের সরকারের আমলে হাজী সেলিমের ভাতিজা পিল্লু কমিশনারের ছত্রছায়ায় পল্লী বিদ্যুতের চোরাই অ্যালুমিনিয়ামের তারের ব্যবসা করতেন।

‘চোরাই তার বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে তারা বিক্রি করতেন, যেখানে অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি পাতিল কড়াই বিক্রি হয়। গত ১৭ বছর কিন্তু ভুক্তভোগী সোহাগ এই কাজ করে এসেছেন। ৫ আগস্টের পর সে ভোল পাল্টে এদিকে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এর মধ্যে আরেকটা গ্রুপ এই ব্যবসায় জড়িয়ে গেছে। তখন ব্যবসায়িক বিভেদ তৈরি হয়। তারা একই এলাকার ও পূর্ব পরিচিত। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা বা সরকারকে বেকায়দায় ফেলা বা অন্য কোনো উদ্দেশে সোহাগ হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।

আরও পড়ুন : ডিবি হারুন আমাকে পারসোনালি ডাকতেন: ডা. সাবরিনা

পুলিশ তদন্তে এরকম কিছু পায়নি। এটা ছিল ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, আমরা এ ঘটনায় মর্মাহত, গভীরভাবে শোকাহত।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনা চলাকালেই ৯৯৯-এর মাধ্যমে চকবাজার থানার ওসি ঘটনার সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই চকবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সরওয়ার ঘটনার কয়েক মিনিট পরেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা চাঁদাবাজদের জায়গা নাই স্লোগান দিতে থাকে।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সারোয়ার ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন মাহবুব ও মহিনকে আটক করে।

পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৯।

কমিশনার বলেন, ভুক্তভোগী সোহাগকে পাথর নিক্ষেপকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা গেলেও সেসময় তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

‘পুলিশের বিশেষ টিমের সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পটুয়াখালী থেকে গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।’

আরও পড়ুন : ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে ছাত্রলীগের  হামলা

‘তার নাম রেজওয়ান উদ্দিন অভি। তার বাবার নাম মনোরঞ্জন বসু। মায়ের নাম বিউটি দেব মিলা। তিনি একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম।’

‘এ ঘটনায় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।’

ডিএমপি কমিশনার সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নারকীয় উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশা প্রকাশ করেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, যেকোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। যেকোনো নাগরিক কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা হতে পারেন। তবে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ব্যবসায়ি সোহাগ হত্যার কারণ নিয়ে যা জানালেন ডিএমপি

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

ব্যবসায়ি সোহাগ হত্যার কারণ জানালেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি জানায়, রাজনীতি নয়, বরং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সোহাগ আগের সরকারের আমলে হাজী সেলিমের ভাতিজা পিল্লু কমিশনারের ছত্রছায়ায় পল্লী বিদ্যুতের চোরাই অ্যালুমিনিয়ামের তারের ব্যবসা করতেন।

‘চোরাই তার বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে তারা বিক্রি করতেন, যেখানে অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি পাতিল কড়াই বিক্রি হয়। গত ১৭ বছর কিন্তু ভুক্তভোগী সোহাগ এই কাজ করে এসেছেন। ৫ আগস্টের পর সে ভোল পাল্টে এদিকে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এর মধ্যে আরেকটা গ্রুপ এই ব্যবসায় জড়িয়ে গেছে। তখন ব্যবসায়িক বিভেদ তৈরি হয়। তারা একই এলাকার ও পূর্ব পরিচিত। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা বা সরকারকে বেকায়দায় ফেলা বা অন্য কোনো উদ্দেশে সোহাগ হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।

আরও পড়ুন : ডিবি হারুন আমাকে পারসোনালি ডাকতেন: ডা. সাবরিনা

পুলিশ তদন্তে এরকম কিছু পায়নি। এটা ছিল ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, আমরা এ ঘটনায় মর্মাহত, গভীরভাবে শোকাহত।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনা চলাকালেই ৯৯৯-এর মাধ্যমে চকবাজার থানার ওসি ঘটনার সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই চকবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সরওয়ার ঘটনার কয়েক মিনিট পরেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা চাঁদাবাজদের জায়গা নাই স্লোগান দিতে থাকে।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সারোয়ার ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন মাহবুব ও মহিনকে আটক করে।

পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৯।

কমিশনার বলেন, ভুক্তভোগী সোহাগকে পাথর নিক্ষেপকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা গেলেও সেসময় তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

‘পুলিশের বিশেষ টিমের সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পটুয়াখালী থেকে গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।’

আরও পড়ুন : ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে ছাত্রলীগের  হামলা

‘তার নাম রেজওয়ান উদ্দিন অভি। তার বাবার নাম মনোরঞ্জন বসু। মায়ের নাম বিউটি দেব মিলা। তিনি একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম।’

‘এ ঘটনায় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।’

ডিএমপি কমিশনার সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নারকীয় উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশা প্রকাশ করেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, যেকোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। যেকোনো নাগরিক কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা হতে পারেন। তবে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।