শরীরের গুলির ক্ষত এখনও দগদগে। ব্যথা আছে, সীমাবদ্ধতাও আছে। কিন্তু স্বপ্ন দেখা থেমে থাকেনি মো. জুবায়ের আহম্মেদের। শারীরিক যন্ত্রণাকে পাশ কাটিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি—এবং পাস করেছেন মানবিক বিভাগ থেকে, পেয়েছেন জিপিএ ৩.৩৯।
পেছনে ফিরে তাকালে জুবায়েরের গল্প যেন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। রাজধানীর তুরাগ থানার কামারপাড়ার বাসিন্দা এই তরুণ তিন বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারেননি শুধুই অর্থের অভাবে। নিজে টুকটাক আয় করতেন, বোনও সাহায্য করতেন। তারপরও ফি জোগাড় করা হয়ে ওঠেনি।
কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান জুবায়েরের জীবনে এক বাঁকবদলের মুহূর্ত এনে দেয়। আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ৪ আগস্ট উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলি তার পাঁজরের নিচে ঢুকে পাকস্থলী ছুঁয়ে বাঁ পাশে আটকে যায়। প্রথম অস্ত্রোপচারে গুলি বের না হলেও দ্বিতীয়বার সফল হন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন : ৫২ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সেই ইউপি সদস্য ইংরেজিতে ফেল
শারীরিক যন্ত্রণা সঙ্গী করেই জুবায়ের এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বসেন কামারপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে। পরীক্ষার প্রতিটি দিনই ছিল ভোগান্তির, কিন্তু মনোবল অটুট। ফলাফল পেয়ে প্রথম আলোকে জানালেন, “ফল খুব ভালো না হলেও আমি খুশি। মা, বোন আর খালামণি—তারা আমার চেয়েও বেশি খুশি।”
জুবায়েরের পরিবারে বাবা জাকির হোসেন একজন গাড়িচালক, মা গৃহিণী। একমাত্র বোন জাকিয়া সুলতানা থাকেন বাড্ডায়, নিজ সংসারে। ছোট থেকেই দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে বেড়ে ওঠা জুবায়েরের।
২০২২ সাল থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কাউট গ্রুপের সদস্য ছিলেন তিনি। সেই গ্রুপের আরেক সদস্য, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ নিহত হওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে সেই কষ্টই তাকে আরও দৃঢ় করেছিল—পেছনে নয়, সামনে তাকাতে।
জুবায়েরের স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। এখন নিজের শরীরের ক্ষত ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সে স্বপ্ন হয়তো ফিকে হয়ে গেছে, কিন্তু আশা এখনও জ্বলে। বলেন, “আমি এখনো সেনাবাহিনীর পরীক্ষা দিতে চাই। নিলেও নেবেন, না নিলেও চেষ্টা করে যাব।”
ঢাকা ডেস্ক 









