১২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ব্রিকসের ঐকমত্যে তেহরানের কূটনৈতিক জয়

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • 127

ব্রাজিলে চলমান ব্রিকস সম্মেলন এক উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের ওপর ইসরায়েলের ‘বিনা উসকানিতে’ চালানো সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এএফপির খবরে জানানো হয় রবিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ব্রিকসের সদস্য দেশরা বলেন, ‘আমরা ১৩ জুন ২০২৫ থেকে ইরানের ওপর শুরু হওয়া সামরিক আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পরমাণু স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

যদিও বিবৃতিতে সরাসরি ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তথাপি ভাষার কড়াকড়ি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে জোটটি ইরানের প্রতি এক শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

আরও পড়ুন : এবার ইসরায়েলের সঙ্গে বড়সড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতি ইরানের জন্য এক বড় কূটনৈতিক অর্জন। সম্মেলনের শুরু থেকেই ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিন্দা জানানো হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। সব সদস্য দেশই নীতিগতভাবে নিন্দা জানাতে রাজি ছিল, তবে বিবৃতির ভাষা কতটা কঠোর হবে—সেটি নিয়ে মতপার্থক্য ছিল।

শেষ পর্যন্ত তেহরানের চাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতায় বিবৃতিতে স্পষ্ট ও জোরালো ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইরানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমর্থন দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়াও সম্মেলনের আরেক বিবৃতিতে গাজা উপত্যকা ও অন্যান্য অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সেখানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় ব্রিকস।

তবে সম্মেলনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘ট্রাম্প শুল্ক’। আগস্ট থেকে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করেনি, তাদের ওপর উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিকস নেতারা এবং পরস্পরের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া—এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো ইরানকে ঘিরে এত জোরালো একতা দেখাল। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি, যিনি তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ব্রিকসের ঐকমত্যে তেহরানের কূটনৈতিক জয়

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

ব্রাজিলে চলমান ব্রিকস সম্মেলন এক উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের ওপর ইসরায়েলের ‘বিনা উসকানিতে’ চালানো সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এএফপির খবরে জানানো হয় রবিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ব্রিকসের সদস্য দেশরা বলেন, ‘আমরা ১৩ জুন ২০২৫ থেকে ইরানের ওপর শুরু হওয়া সামরিক আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পরমাণু স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

যদিও বিবৃতিতে সরাসরি ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তথাপি ভাষার কড়াকড়ি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে জোটটি ইরানের প্রতি এক শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

আরও পড়ুন : এবার ইসরায়েলের সঙ্গে বড়সড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতি ইরানের জন্য এক বড় কূটনৈতিক অর্জন। সম্মেলনের শুরু থেকেই ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিন্দা জানানো হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। সব সদস্য দেশই নীতিগতভাবে নিন্দা জানাতে রাজি ছিল, তবে বিবৃতির ভাষা কতটা কঠোর হবে—সেটি নিয়ে মতপার্থক্য ছিল।

শেষ পর্যন্ত তেহরানের চাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতায় বিবৃতিতে স্পষ্ট ও জোরালো ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইরানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমর্থন দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়াও সম্মেলনের আরেক বিবৃতিতে গাজা উপত্যকা ও অন্যান্য অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সেখানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় ব্রিকস।

তবে সম্মেলনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘ট্রাম্প শুল্ক’। আগস্ট থেকে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করেনি, তাদের ওপর উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিকস নেতারা এবং পরস্পরের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া—এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো ইরানকে ঘিরে এত জোরালো একতা দেখাল। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি, যিনি তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।