০৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরে সরকারি বালু চুরির অভিযোগে কৃষি কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • 113

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদ খননের সময় সংগৃহীত সরকারি বালু অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ লাখ ঘনফুট বালু চুরি করে ২০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন (৬৫), তার দুই ছেলে—জাহিদ হাসান (৩৮), যিনি সনমানিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক; এবং তৌহিদুল ইসলাম (৩৫), যিনি কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা। এছাড়াও একই এলাকার দুই বাসিন্দা—সোহরাব হোসেন (৪৫) ও জাকির হোসেন (৪৮)—এই মামলায় আসামি হয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, চরসনমানিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় জামাল বেপারীর বাড়ির পাশে ব্রহ্মপুত্র নদ খননের সময় উত্তোলিত বালু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নদীর তীরে রাখার কথা থাকলেও, তা ব্যক্তিমালিকানাধীন এক জমিতে স্তুপ করে রাখা হয়। পরে গোপনে ওই বালু বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

আরও পড়ুন : কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা

মামলার বাদী খবীর উদ্দিন জানান, ১৯ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত সেই অভিযানে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়, তবে ঘটনাস্থলে বালু কাটার আলামত স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, “সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, পাশাপাশি বালু উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বালু বিক্রির বিষয়ে আমি অবগত নই। এটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল।”

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনো থানার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাইনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

গাজীপুরে সরকারি বালু চুরির অভিযোগে কৃষি কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদ খননের সময় সংগৃহীত সরকারি বালু অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ লাখ ঘনফুট বালু চুরি করে ২০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন (৬৫), তার দুই ছেলে—জাহিদ হাসান (৩৮), যিনি সনমানিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক; এবং তৌহিদুল ইসলাম (৩৫), যিনি কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা। এছাড়াও একই এলাকার দুই বাসিন্দা—সোহরাব হোসেন (৪৫) ও জাকির হোসেন (৪৮)—এই মামলায় আসামি হয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, চরসনমানিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় জামাল বেপারীর বাড়ির পাশে ব্রহ্মপুত্র নদ খননের সময় উত্তোলিত বালু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নদীর তীরে রাখার কথা থাকলেও, তা ব্যক্তিমালিকানাধীন এক জমিতে স্তুপ করে রাখা হয়। পরে গোপনে ওই বালু বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

আরও পড়ুন : কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা

মামলার বাদী খবীর উদ্দিন জানান, ১৯ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত সেই অভিযানে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়, তবে ঘটনাস্থলে বালু কাটার আলামত স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, “সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, পাশাপাশি বালু উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বালু বিক্রির বিষয়ে আমি অবগত নই। এটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল।”

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনো থানার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাইনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”