০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বনে ফিরে গেল সেই অজগর

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • 63

গারো পাহাড়ের গভীর বনে অজগরটি অবমুক্ত করা হয়। সৌজন্য ছবি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড় সংলগ্ন লোকালয় থেকে একটি বার্মিজ পাইথন বা বার্মিজ অগজর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধারকৃত পাইথনটি গারো পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও গ্রামে একটি বার্মিজ পাইথন উদ্ধার করে বন বিভাগ।

শেরপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড় সংলগ্ন পোড়াগাঁও গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে পাইথন সাপটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব মিয়া।

পরে তিনি বন বিভাগকে খবর দিলে ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশনের’ (ডিইএসসি) কর্মীরা গিয়ে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। সাপটির দৈর্ঘ্য ছিল ৮১ ইঞ্চি, ব্যাস ১১ ইঞ্চি, লেজের দৈর্ঘ্য ১১ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৭ কেজি ২০০ গ্রাম।

সাপটি উদ্ধার ও পর্যবেক্ষণের পর বন বিভাগ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় গারো পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করে।

পাইথনটি বনে অবমুক্তকরণের সময় বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী, সমুশ্চুড়া বিট কর্মকর্তা কাউসার হোসেন, মধুটিলা এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)-এর সদস্য আরফান আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন : শিয়ালের সঙ্গে সিএনজির ধাক্কা, অতঃপর…

এদিকে, বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল।

তিনি জানান, দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।

জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বনে ফিরে গেল সেই অজগর

সর্বশেষ আপডেট : ১০:২২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড় সংলগ্ন লোকালয় থেকে একটি বার্মিজ পাইথন বা বার্মিজ অগজর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধারকৃত পাইথনটি গারো পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও গ্রামে একটি বার্মিজ পাইথন উদ্ধার করে বন বিভাগ।

শেরপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড় সংলগ্ন পোড়াগাঁও গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে পাইথন সাপটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব মিয়া।

পরে তিনি বন বিভাগকে খবর দিলে ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশনের’ (ডিইএসসি) কর্মীরা গিয়ে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। সাপটির দৈর্ঘ্য ছিল ৮১ ইঞ্চি, ব্যাস ১১ ইঞ্চি, লেজের দৈর্ঘ্য ১১ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৭ কেজি ২০০ গ্রাম।

সাপটি উদ্ধার ও পর্যবেক্ষণের পর বন বিভাগ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় গারো পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করে।

পাইথনটি বনে অবমুক্তকরণের সময় বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী, সমুশ্চুড়া বিট কর্মকর্তা কাউসার হোসেন, মধুটিলা এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)-এর সদস্য আরফান আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন : শিয়ালের সঙ্গে সিএনজির ধাক্কা, অতঃপর…

এদিকে, বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল।

তিনি জানান, দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।

জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।