১২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ফেসবুকে কি লিখেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি ?

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • 245

লালমনিরহাটের সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। ফুঁসে উঠেছিল সরকার ও ছাত্রজনতা।

গত বছরের অক্টোবরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে নিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ! কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’

এছাড়া শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ছাড়াও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেশকিছু স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন তাপসী তাবাসসুম।

তার এ সব মন্তব্য নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। প্রশ্ন উঠে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সবাই যখন চুপ, তখন কেন প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের মন্তব্য করতে সাহস করলেন তিনি?

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ঊর্মি। তিনি ঠিক করেন বিদেশে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়বেন। সেজন্য ১ সেপ্টেম্বর রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার থেকে পাসপোর্টের জন্য এনওসি নেন তিনি। সম্প্রতি ‘হায়ার স্টাডি অ্যাবরোড’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে তাকে যুক্ত হতে দেখা যায়।

অভিযোগ উঠে দ্রুত চাকরি থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি বাইরে ভিসা পাওয়া কিংবা প্রয়োজনে অ্যাসাইলাম পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে ঊর্মিকে একটু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। প্রথমে জনরোষ তৈরি করতে তিনি আবু সাইদকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। কিন্তু তার ফেসবুক প্রোফাইল লক থাকায় সেটা বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। কিন্তু এবার প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে তার পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার পর তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির ফেসবুক আইডিতে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। তার ফেসবুক আইডিজুড়ে আওয়ামী লীগের পক্ষেও শক্ত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেখা গেছে। অবশ্য পরবর্তীতে তার আইডিতে ঢুকে কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। এর আগেই তিনি সব কিছু সরিয়ে ফেলেন।

গত ৬ অক্টোবর তাপসী তাবাসসুম ঊর্মিকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরের দিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান আছে।

সর্বশেষ বুধবার (২ জুলাই) তাকে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৬ অক্টোবর তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি নিজ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক ‘অসদাচারণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়।

এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি নিরাপত্তার কারণে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ না নিয়ে লিখিতভাবে জবাব দেন।‌ তার জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব, পারিপার্শ্বিকতা এবং বিভাগীয় মামলার নথি পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ফলে তাকে বিধিমালা অনুযায়ী ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও গুরুদণ্ড দিতে কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করে পরামর্শ দেয়। রাষ্ট্রপতিও তাকে চাকরিচ্যুতির গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ফেসবুকে কি লিখেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি ?

সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

লালমনিরহাটের সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। ফুঁসে উঠেছিল সরকার ও ছাত্রজনতা।

গত বছরের অক্টোবরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে নিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ! কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’

এছাড়া শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ছাড়াও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেশকিছু স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন তাপসী তাবাসসুম।

তার এ সব মন্তব্য নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। প্রশ্ন উঠে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সবাই যখন চুপ, তখন কেন প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের মন্তব্য করতে সাহস করলেন তিনি?

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ঊর্মি। তিনি ঠিক করেন বিদেশে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়বেন। সেজন্য ১ সেপ্টেম্বর রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার থেকে পাসপোর্টের জন্য এনওসি নেন তিনি। সম্প্রতি ‘হায়ার স্টাডি অ্যাবরোড’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে তাকে যুক্ত হতে দেখা যায়।

অভিযোগ উঠে দ্রুত চাকরি থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি বাইরে ভিসা পাওয়া কিংবা প্রয়োজনে অ্যাসাইলাম পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে ঊর্মিকে একটু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। প্রথমে জনরোষ তৈরি করতে তিনি আবু সাইদকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। কিন্তু তার ফেসবুক প্রোফাইল লক থাকায় সেটা বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। কিন্তু এবার প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে তার পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার পর তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির ফেসবুক আইডিতে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। তার ফেসবুক আইডিজুড়ে আওয়ামী লীগের পক্ষেও শক্ত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেখা গেছে। অবশ্য পরবর্তীতে তার আইডিতে ঢুকে কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। এর আগেই তিনি সব কিছু সরিয়ে ফেলেন।

গত ৬ অক্টোবর তাপসী তাবাসসুম ঊর্মিকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরের দিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান আছে।

সর্বশেষ বুধবার (২ জুলাই) তাকে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৬ অক্টোবর তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি নিজ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক ‘অসদাচারণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়।

এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি নিরাপত্তার কারণে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ না নিয়ে লিখিতভাবে জবাব দেন।‌ তার জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব, পারিপার্শ্বিকতা এবং বিভাগীয় মামলার নথি পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ফলে তাকে বিধিমালা অনুযায়ী ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও গুরুদণ্ড দিতে কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করে পরামর্শ দেয়। রাষ্ট্রপতিও তাকে চাকরিচ্যুতির গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।