১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

এবার সমু চৌধুরীর সবশেষ অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
  • 126

টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ সমু চৌধুরী। টিভি নাটকে দর্শক মাতালেও মাঝে অভিমান করে কয়েক বছর অভিনয় থেকে দূরে সড়ে ছিলেন। পরে আবার শোবিজ জগতে ফিরে আসেন। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিনেতার বেশ কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মুখী শাহ্ মিসকিন মাজারের পাশে, রাস্তার ধারে একটি গাছের নিচে নিঃসঙ্গভাবে গামছা পরে শুয়ে আছেন সমু চৌধুরী।

ছবিগুলো দ্রুত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তার অবস্থা দেখে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করতে থাকেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিনেতকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) গভীর রাতে সমু চৌধুরী নিজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে ঢাকায় ফেরেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম।

তিনি বলেন, শেষ রাতে সমু চৌধুরীকে তার খালাতো ভাই অপুর কাছে হস্তান্তর করেছি। এ সময় অভিনয়শিল্পী সংঘের কয়েকজন সঙ্গে ছিলেন।

তবে এখানেই ঘটনার শেষ নয়। ঢাকায় ফিরেই আরেকটি নতুন সিদ্ধান্ত নেন সমু চৌধুরী—তিনি সরাসরি যশোরে মায়ের কাছে ফিরে যান। দীর্ঘদিন পর মায়ের কোলে ফিরেই যেন সব গুঞ্জন, বিভ্রান্তি ও ক্লান্তি ভুলে শান্তির পরশ খুঁজে পান এই প্রিয় অভিনেতা। শুক্রবার (১৩ জুন) সকালেই তিনি যশোরে পৌঁছান বলে অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মাজারে সমু চৌধুরী

এদিকে গামছা পরে শুয়ে থাকা নিয়ে গণমাধ্যমকে সমু চৌধুরী নিজেই জানান, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ নন। এটা খুবই লজ্জাজনক। আমি ভোরবেলা নামাজ পড়ে, নদীতে গোসল করে এখানে ঘুমিয়েছিলাম।

আমি এক কাপড়েই এসেছিলাম। যশোরে ছিলাম, সেখান থেকে ফিরে আসার পরেই হঠাৎ করে ছোট ভাইরা বলছিল, মিশকিন শাহে যাবেন নাকি। আমি বললাম, কোথায়? পরে মনে পড়লো। আমি তাদের বললাম, সেখানে তো আমি গিয়েছিলাম।

তারপর আমি তাদের সঙ্গে আসছি।

খুব স্বাভাবিক কণ্ঠে এই অভিনেতা বললেন, সারাদিন আড্ডা মেরেছি, এখানকার যে কুতুবরা আছেন, যারা খাদেম আছেন, যারা পাগল আছেন, কথা বলছি, আড্ডা দিয়েছি। আমার জীবনের সঙ্গে, তাদের জীবনের মিল খুঁজছি, নাটক খুঁজছি। আমি বুঝলাম না এতে তোদের কী? তিনি বলেন, তোরা আউলিয়া বুঝিস না, পাগল বুঝিস না, একটা ছবি তুলে দিয়ে দিলি, এটা তো ভাইরাল হয়ে গেছে।

ছবিটা দেখে ভক্ত, কাছের মানুষ বন্ধুরা আঘাত পেয়েছেন জানিয়ে সমু চৌধুরী বলেন, আমার বন্ধুরা যারা দেখেছে, ফোন করে বলেছে কি রে! সমু শুয়ে রয়েছে এটা তো তাদের কলিজায় লেগে যায়।

কেউ গাড়ি পাঠায়ে দিচ্ছে। শিল্পী সংঘ থেকে ফোন দিয়ে বলা হচ্ছে, দাদা তুমি ওখানে থাকো। শান্তি দি আমাকে ফোন দিয়ে বলছে, তুমি ওখানে থাকো; আমি গাড়ি পাঠায়ে দিচ্ছি। তুমি ওখান থেকে নড়বা না, আমি বললাম তোরা কী শুরু করেছিস? আমার স্বাধীনতা নাই? আমার বয়স ৬১। আমার বাবা, ভাই, বোন কেউ নাই, আমার একমাত্র মা আছে।

প্রসঙ্গত, সমু চৌধুরী দেশের মঞ্চ, টিভি এবং সিনেমার জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। ১৯৯০ সালের ২২ মার্চ বিটিভিতে প্রচারিত হয় তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ‘সমৃদ্ধ অসীম’। নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন আতিকুল হক চৌধুরী। সেই নাটকে অভিনয় করে তিনি সাতশ টাকা সম্মানি পেয়েছিলেন।

নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন সমু চৌধুরী। ১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর ‘দোলন চাঁপা’, ‘শত জনমের প্রেম’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘যাবি কই’, ‘সুন্দরী বধূ’সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

এবার সমু চৌধুরীর সবশেষ অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

সর্বশেষ আপডেট : ০২:২২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ সমু চৌধুরী। টিভি নাটকে দর্শক মাতালেও মাঝে অভিমান করে কয়েক বছর অভিনয় থেকে দূরে সড়ে ছিলেন। পরে আবার শোবিজ জগতে ফিরে আসেন। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিনেতার বেশ কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মুখী শাহ্ মিসকিন মাজারের পাশে, রাস্তার ধারে একটি গাছের নিচে নিঃসঙ্গভাবে গামছা পরে শুয়ে আছেন সমু চৌধুরী।

ছবিগুলো দ্রুত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তার অবস্থা দেখে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করতে থাকেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিনেতকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) গভীর রাতে সমু চৌধুরী নিজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে ঢাকায় ফেরেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম।

তিনি বলেন, শেষ রাতে সমু চৌধুরীকে তার খালাতো ভাই অপুর কাছে হস্তান্তর করেছি। এ সময় অভিনয়শিল্পী সংঘের কয়েকজন সঙ্গে ছিলেন।

তবে এখানেই ঘটনার শেষ নয়। ঢাকায় ফিরেই আরেকটি নতুন সিদ্ধান্ত নেন সমু চৌধুরী—তিনি সরাসরি যশোরে মায়ের কাছে ফিরে যান। দীর্ঘদিন পর মায়ের কোলে ফিরেই যেন সব গুঞ্জন, বিভ্রান্তি ও ক্লান্তি ভুলে শান্তির পরশ খুঁজে পান এই প্রিয় অভিনেতা। শুক্রবার (১৩ জুন) সকালেই তিনি যশোরে পৌঁছান বলে অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মাজারে সমু চৌধুরী

এদিকে গামছা পরে শুয়ে থাকা নিয়ে গণমাধ্যমকে সমু চৌধুরী নিজেই জানান, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ নন। এটা খুবই লজ্জাজনক। আমি ভোরবেলা নামাজ পড়ে, নদীতে গোসল করে এখানে ঘুমিয়েছিলাম।

আমি এক কাপড়েই এসেছিলাম। যশোরে ছিলাম, সেখান থেকে ফিরে আসার পরেই হঠাৎ করে ছোট ভাইরা বলছিল, মিশকিন শাহে যাবেন নাকি। আমি বললাম, কোথায়? পরে মনে পড়লো। আমি তাদের বললাম, সেখানে তো আমি গিয়েছিলাম।

তারপর আমি তাদের সঙ্গে আসছি।

খুব স্বাভাবিক কণ্ঠে এই অভিনেতা বললেন, সারাদিন আড্ডা মেরেছি, এখানকার যে কুতুবরা আছেন, যারা খাদেম আছেন, যারা পাগল আছেন, কথা বলছি, আড্ডা দিয়েছি। আমার জীবনের সঙ্গে, তাদের জীবনের মিল খুঁজছি, নাটক খুঁজছি। আমি বুঝলাম না এতে তোদের কী? তিনি বলেন, তোরা আউলিয়া বুঝিস না, পাগল বুঝিস না, একটা ছবি তুলে দিয়ে দিলি, এটা তো ভাইরাল হয়ে গেছে।

ছবিটা দেখে ভক্ত, কাছের মানুষ বন্ধুরা আঘাত পেয়েছেন জানিয়ে সমু চৌধুরী বলেন, আমার বন্ধুরা যারা দেখেছে, ফোন করে বলেছে কি রে! সমু শুয়ে রয়েছে এটা তো তাদের কলিজায় লেগে যায়।

কেউ গাড়ি পাঠায়ে দিচ্ছে। শিল্পী সংঘ থেকে ফোন দিয়ে বলা হচ্ছে, দাদা তুমি ওখানে থাকো। শান্তি দি আমাকে ফোন দিয়ে বলছে, তুমি ওখানে থাকো; আমি গাড়ি পাঠায়ে দিচ্ছি। তুমি ওখান থেকে নড়বা না, আমি বললাম তোরা কী শুরু করেছিস? আমার স্বাধীনতা নাই? আমার বয়স ৬১। আমার বাবা, ভাই, বোন কেউ নাই, আমার একমাত্র মা আছে।

প্রসঙ্গত, সমু চৌধুরী দেশের মঞ্চ, টিভি এবং সিনেমার জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। ১৯৯০ সালের ২২ মার্চ বিটিভিতে প্রচারিত হয় তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ‘সমৃদ্ধ অসীম’। নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন আতিকুল হক চৌধুরী। সেই নাটকে অভিনয় করে তিনি সাতশ টাকা সম্মানি পেয়েছিলেন।

নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন সমু চৌধুরী। ১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর ‘দোলন চাঁপা’, ‘শত জনমের প্রেম’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘যাবি কই’, ‘সুন্দরী বধূ’সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন।