০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শাহবাগ থানায় জিডি করলেন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • 113

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজকে অনলাইনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আবরার ফাইয়াজ শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। শুক্রবার (৩০ মে) বিকাল ৫টায় তিনি এ জিডি করেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৭ মে তারিখে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ের বিচার নিয়ে একটি মন্তব্য পোস্ট করেন।

সেই পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেন ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার ইব্রাহিম। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘জাশি (জামায়াত শিবির) এর কুত্তা আবরার ফাহাদকে হত্যা কেন জায়েজ ছিল দেখ তোরা।’ সেই পোস্টে নোয়াজ হোসাইন ফারদিন নামের একজন- ‘ভাই গেছে যে পথে সেও’- এমন মন্তব্য করেন।

এর আগে একই পোস্টে তার সেই মন্তব্য ঘিরে অনলাইনে আবরার ফাহাদ ও তার পরিবারকে নিয়ে নানা কুৎসিত ও হুমকিসূচক মন্তব্য ছড়াতে থাকে।

আরও পড়ুন : উত্তাল সাগর, উপকূলে উঠে গেল বিশাল জাহাজ

ফাইয়াজের ভাষ্য, এই মন্তব্য তাকে এবং তার পরিবারকে সরাসরি হুমকি দেওয়ার শামিল এবং এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এছাড়াও শহীদ আবরার ফাহাদকে হত্যার বহু বছর পরও একশ্রেণির কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ফের হেয় করছে এবং তার পরিবারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে।

এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে আবরার ফাইয়াজ তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

তিনি জিডির সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন নেতার ফেসবুক পোস্ট, মন্তব্য, অভিযুক্তদের স্ক্রিনশট ও সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রমাণ সংযুক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, সাড়ে পাঁচ বছর আগে বুয়েটের একটি হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে তখন দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বিচারিক আদালতের দেওয়া সেই রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

শাহবাগ থানায় জিডি করলেন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজকে অনলাইনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আবরার ফাইয়াজ শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। শুক্রবার (৩০ মে) বিকাল ৫টায় তিনি এ জিডি করেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৭ মে তারিখে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ের বিচার নিয়ে একটি মন্তব্য পোস্ট করেন।

সেই পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেন ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার ইব্রাহিম। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘জাশি (জামায়াত শিবির) এর কুত্তা আবরার ফাহাদকে হত্যা কেন জায়েজ ছিল দেখ তোরা।’ সেই পোস্টে নোয়াজ হোসাইন ফারদিন নামের একজন- ‘ভাই গেছে যে পথে সেও’- এমন মন্তব্য করেন।

এর আগে একই পোস্টে তার সেই মন্তব্য ঘিরে অনলাইনে আবরার ফাহাদ ও তার পরিবারকে নিয়ে নানা কুৎসিত ও হুমকিসূচক মন্তব্য ছড়াতে থাকে।

আরও পড়ুন : উত্তাল সাগর, উপকূলে উঠে গেল বিশাল জাহাজ

ফাইয়াজের ভাষ্য, এই মন্তব্য তাকে এবং তার পরিবারকে সরাসরি হুমকি দেওয়ার শামিল এবং এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এছাড়াও শহীদ আবরার ফাহাদকে হত্যার বহু বছর পরও একশ্রেণির কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ফের হেয় করছে এবং তার পরিবারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে।

এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে আবরার ফাইয়াজ তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

তিনি জিডির সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন নেতার ফেসবুক পোস্ট, মন্তব্য, অভিযুক্তদের স্ক্রিনশট ও সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রমাণ সংযুক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, সাড়ে পাঁচ বছর আগে বুয়েটের একটি হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে তখন দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বিচারিক আদালতের দেওয়া সেই রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট।