১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পাচারের জন্য রাখা হয় ৭৩ কচ্ছপ, হঠাৎ হাজির বনকর্মকর্তারা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • 191

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে ৭৩টি কচ্ছপসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বন বিভাগ। বুধবার (২১ মে) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জের জমিদারহাট এলাকায় অভিযান চালায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক ও আব্দুল্লাহ আস সাদিকের নেতৃত্বে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ২৫টি কড়ি কাইট্যা, ৪২টি সুন্ধি কাছিম এবং ৬টি হলুদ কাইট্যাসহ তিন প্রজাতির মোট ২৩টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব কচ্ছপের ওজন ৮০ কেজি।

পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করে বন বিভাগ

অভিযানকালে একজন পাচারকারীকেও হাতেনাতে আটক করে বন বিভাগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারী জানান, তিনি নিয়মিতভাবে নোয়াখালীর বিভিন্ন জলাশয় থেকে কচ্ছপ সংগ্রহ করে মজুদ করতেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের কাজে সহযোগিতা করতেন। উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোও পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর দ্রুত প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট সর্বদা তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন :  যমুনায় ধরা পড়ল ৭২ কেজির বিশাল বাগাড়

এদিকে, বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, দুই থেকে তিন দশক আগেও দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর ইত্যাদি জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর কাছিম দেখা যেত, তবে বাসস্থান ধ্বংস ও ক্রমাগত শিকারের কারণে এই জলজ প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

তিনি বলেন, দেশে যতগুলো কচ্ছপের প্রজাতি রয়েছে, নানা কারণে তার সবগুলোর অস্তিত্বই কমবেশি হুমকির মুখে। প্রাণীটি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর অনুযায়ী কচ্ছপ সংরক্ষিত প্রাণী। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিসাধন করা ২০১২ এর ধারা ৬ এবং ৩৪(খ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

পাচারের জন্য রাখা হয় ৭৩ কচ্ছপ, হঠাৎ হাজির বনকর্মকর্তারা

সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে ৭৩টি কচ্ছপসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বন বিভাগ। বুধবার (২১ মে) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জের জমিদারহাট এলাকায় অভিযান চালায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক ও আব্দুল্লাহ আস সাদিকের নেতৃত্বে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ২৫টি কড়ি কাইট্যা, ৪২টি সুন্ধি কাছিম এবং ৬টি হলুদ কাইট্যাসহ তিন প্রজাতির মোট ২৩টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব কচ্ছপের ওজন ৮০ কেজি।

পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করে বন বিভাগ

অভিযানকালে একজন পাচারকারীকেও হাতেনাতে আটক করে বন বিভাগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারী জানান, তিনি নিয়মিতভাবে নোয়াখালীর বিভিন্ন জলাশয় থেকে কচ্ছপ সংগ্রহ করে মজুদ করতেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের কাজে সহযোগিতা করতেন। উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোও পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর দ্রুত প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট সর্বদা তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন :  যমুনায় ধরা পড়ল ৭২ কেজির বিশাল বাগাড়

এদিকে, বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, দুই থেকে তিন দশক আগেও দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর ইত্যাদি জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর কাছিম দেখা যেত, তবে বাসস্থান ধ্বংস ও ক্রমাগত শিকারের কারণে এই জলজ প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

তিনি বলেন, দেশে যতগুলো কচ্ছপের প্রজাতি রয়েছে, নানা কারণে তার সবগুলোর অস্তিত্বই কমবেশি হুমকির মুখে। প্রাণীটি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর অনুযায়ী কচ্ছপ সংরক্ষিত প্রাণী। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিসাধন করা ২০১২ এর ধারা ৬ এবং ৩৪(খ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।