০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

নগরভবনের সামনে ষষ্ঠ দিনের মতো ইশরাকের সমর্থকদের বিক্ষোভ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • 78

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণার দাবিতে আজও নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার সমর্থকরা। মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। এ নিয়ে ষষ্ঠ দিনের মতো ঢাকাবাসীর ব্যানারে নগরভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন ইশরাক সমর্থকরা।

ষষ্ঠ দিনের মতো ইশরাকের সমর্থকদের বিক্ষোভ

এদিকে টানা আন্দোলনে অচল অবস্থায় দক্ষিণ সিটির নগর ভবনের কার্যক্রম। ৫ বছর আগের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে ইশরাক হোসেনের মেয়রের দায়িত্ব নিতে চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। আন্দোলনকারীরা নগরভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না সেবাগ্রহীতারা।

এ সময় গুলিস্তান-বঙ্গবাজার সড়কও বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী। অবিলম্বে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দাও, দিতে হবে, দফা এক দাবি এক, আসিফের পদত্যাগ, আসিফ ভূঁইয়ার কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, শপথ নিয়ে টালবাহানা চলবেনা চলবে নাসহ প্রভৃতি স্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে নগর ভবনের সামনের এলাকা।

ইশরাকের সমর্থকদের আন্দোলনের কারণে নগর ভবনের প্রশাসনিক কার্যক্রম আজও বন্ধ রয়েছে। নগর ভবনে থাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমও বন্ধ। আন্দোলনের কারণে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত ছয়দিন ধরে অফিস করছেন না বলে জানা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে মঙ্গলবার নিজের ভেরিফয়েড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।

ইশরাক হোসেনের বক্তব্য

তিনি লিখেছেন, ‘আমি আন্দোলনরত ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনগণ ও ভোটারদের বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বাদে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতার বিরুদ্ধে যত ক্ষোভ থাকুক না কেন, আমরা তাদের অসম্মান হয় এরকম কিছু করা থেকে শতভাগ বিরত থাকি। আমরা সমালোচনা করি, রাজনৈতিক বক্তব্যর মধ্য দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করি, তাদের ভুল ধরিয়ে দেই কিন্তু অবশ্যই ভাষাগত শিষ্টাচার মেনে।’

ইশরাক হোসেন লেখেন, অনেক তো দেখে আসছি আর পেছনের দিকে দেশটাকে নিতে চাই না। অবশ্যই আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করব, দেশের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেব, নির্বাচনী স্পষ্ট রোডম্যাপ আদায়ের মাধ্যমে আমাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নিব। এমনকি বর্তমানে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের পদত্যাগে কঠোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও করব। কিন্তু ভাষা ও ব্যবহার জাতে শত্রুও সমালোচনা করতে না পারে।

এ বিষয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ গতকাল সোমবার বলেন, ‘বিষয়টি এখনও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শপথের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হন। গত ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি পেয়ে ২২ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চায় নির্বাচন কমিশন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

নগরভবনের সামনে ষষ্ঠ দিনের মতো ইশরাকের সমর্থকদের বিক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণার দাবিতে আজও নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার সমর্থকরা। মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। এ নিয়ে ষষ্ঠ দিনের মতো ঢাকাবাসীর ব্যানারে নগরভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন ইশরাক সমর্থকরা।

ষষ্ঠ দিনের মতো ইশরাকের সমর্থকদের বিক্ষোভ

এদিকে টানা আন্দোলনে অচল অবস্থায় দক্ষিণ সিটির নগর ভবনের কার্যক্রম। ৫ বছর আগের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে ইশরাক হোসেনের মেয়রের দায়িত্ব নিতে চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। আন্দোলনকারীরা নগরভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না সেবাগ্রহীতারা।

এ সময় গুলিস্তান-বঙ্গবাজার সড়কও বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী। অবিলম্বে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দাও, দিতে হবে, দফা এক দাবি এক, আসিফের পদত্যাগ, আসিফ ভূঁইয়ার কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, শপথ নিয়ে টালবাহানা চলবেনা চলবে নাসহ প্রভৃতি স্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে নগর ভবনের সামনের এলাকা।

ইশরাকের সমর্থকদের আন্দোলনের কারণে নগর ভবনের প্রশাসনিক কার্যক্রম আজও বন্ধ রয়েছে। নগর ভবনে থাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমও বন্ধ। আন্দোলনের কারণে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত ছয়দিন ধরে অফিস করছেন না বলে জানা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে মঙ্গলবার নিজের ভেরিফয়েড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।

ইশরাক হোসেনের বক্তব্য

তিনি লিখেছেন, ‘আমি আন্দোলনরত ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনগণ ও ভোটারদের বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বাদে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতার বিরুদ্ধে যত ক্ষোভ থাকুক না কেন, আমরা তাদের অসম্মান হয় এরকম কিছু করা থেকে শতভাগ বিরত থাকি। আমরা সমালোচনা করি, রাজনৈতিক বক্তব্যর মধ্য দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করি, তাদের ভুল ধরিয়ে দেই কিন্তু অবশ্যই ভাষাগত শিষ্টাচার মেনে।’

ইশরাক হোসেন লেখেন, অনেক তো দেখে আসছি আর পেছনের দিকে দেশটাকে নিতে চাই না। অবশ্যই আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করব, দেশের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেব, নির্বাচনী স্পষ্ট রোডম্যাপ আদায়ের মাধ্যমে আমাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নিব। এমনকি বর্তমানে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের পদত্যাগে কঠোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও করব। কিন্তু ভাষা ও ব্যবহার জাতে শত্রুও সমালোচনা করতে না পারে।

এ বিষয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ গতকাল সোমবার বলেন, ‘বিষয়টি এখনও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শপথের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হন। গত ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি পেয়ে ২২ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চায় নির্বাচন কমিশন।